পরীমনিকে ধর্ষণ ও হত্যা চেষ্টা কে করেছে, পরিমনি নিজেই বলে দিলেন সবার নাম


ঢাকাই সিনেমার জনপ্রিয় অভিনেত্রী পরীমনি গতকাল হঠাৎ করেই তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে উল্লেখ করেন তাকে ধর্ষণ ও হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে কিন্তু কোথাও তিনি তার বিচার পাচ্ছেন না। কিন্তু কে তাকে ধর্ষণ বা হত্যা করার চেষ্টা করেছে বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি দুজন মানুষের নাম বলেন ।

তাদের একজন রাজধানীর উত্তরা ক্লাব লিমিটেডের সাবেক প্রেসিডেন্ট নাছির উদ্দিন মাহমুদ এবং অন্যজন তার (পরীমণি) কস্টিউম ডিজাইনার জেমীর স্কুলবন্ধু অমি নামের এক ব্যবসায়ী। পরীমনি জানান- রাত ১২টায় তাকে বিরুলিয়ায় নাছির উদ্দিন মাহমুদের কাছে নিয়ে যায় অমি। সে সময় নাছির উদ্দিন মাহমুদ নিজেকে ঢাকা বোট ক্লাবের সভাপতি হিসেবে পরিচয় দেন।’

সেখানে নাছির উদ্দিন মাহমুদ তাকে মদ খেতে অফার করেন। পরীমনি তাতে রাজি না হলে তাকে জোর করে মদ খাওয়ানোর চেষ্টা করেন। এবং একপর্যায়ে তাকে চড়-থাপ্পড় মারেন। আর তারপর পরীমনিকে নির্যাতন ও হত্যার চেষ্টা করেন। অমিও এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন।’

পরবর্তীতে পরীমনি বনানী থানায় অভিযোগ দিতে গেলে তার অভিযোগ আমলে নেয়নি বলেও জানিয়েছেন তিনি কিন্তু বনানী থানার ওসি বলছেন পরীমনি অবস্থায় ছিলেন তাই তখন তার অভিযোগ গ্রহণ করা হয়নি । এছাড়াও পরীমনি বিচার চেয়ে শিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক (অভিনেতা) জায়েদ খানকে বিষয়টি জানালে জায়েদ খান তাকে আশ্বস্ত করলেও কোনো ব্যবস্থা নেননি। তাই তিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চেয়েছেন।

পরিমনি তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেছেন-

বরাবর,

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

আমি পরীমণি।এই দেশের একজন বাধ্যগত নাগরিক।আমার পেশা চলচ্চিত্র।

আমি শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়েছি।

আমাকে রেপ এবং হত্যা করার চেষ্টা করা হয়েছে।

আমি এর বিচার চাই।

এই বিচার কই চাইবো আমি? কোথায় চাইবো? কে করবে সঠিক বিচার ? আমি খুঁজে পাইনি গত চার দিন ধরে। থানা থেকে শুরু করে আমাদের চলচ্চিত্রবন্ধু বেনজির আহমেদ আইজিপি

স্যার! আমি কাউকে পাইনা মা।

যাদেরকে পেয়েছি সবাই শুধু ঘটনা বিস্তারিত জেনে, দেখছি বলে চুপ হয়ে যায়!

আমি মেয়ে, আমি নায়িকা, তার আগে আমি মানুষ। আমি চুপ করে থাকতে পারিনা। আজ আমার সাথে যা হয়েছে তা যদি আমি কেবল মেয়ে বলে, লোকে কী বলবে এই গিলানো বাক্য মেনে নিয়ে চুপ হয়ে যাই, তাহলে অনেকের মতো (যাদের অনেক নাম এক্ষুণি মনে পরে গেল) তাদের মতো আমিও কেবল তাদের দল ভারী করতে চলেছি হয়তো।

আফসোস ছাড়া কারোর কি করবার থাকবে তখন!

আমি তাদের মতো চুপ কি করে থাকতে পারি মা?

আমি তো আপনাকে দেখিনি চুপ থেকে কোন অন্যায় মেনে নিতে!

আমার মা যখন মারা যান তখন আমার বয়স আড়াই বছর। এতদিনে কখনো আমার এক মুহুর্ত মাকে খুব দরকার এখন,

মনে হয়নি এটা। আজ মনে হচ্ছে , ভীষণ রকম মনে হচ্ছে মাকে দরকার ,একটু শক্ত করে জড়িয়ে ধরার জন্য দরকার।

আমার আপনাকে দরকার মা। আমার এখন বেঁচে থাকার জন্য আপনাকে দরকার মা।

মা আমি বাচঁতে চাই।

আমাকে বাঁচিয়ে নাও মা 🙏

ভিডিওসহ দেখুন- 



প্রিয় দর্শক পরিমনির এই বিষয়টিকে আপনি কিভাবে দেখছেন সেটা জানিয়ে অবশ্যই আপনার মূল্যবান মতামত কমেন্টে জানিয়ে দিতে পারেন।

Post a Comment

0 Comments