টাইম ট্রাভেল এবং রাসুল (সাঃ) এর মেরাজ


টাইম ট্রাভেল মানে সময়ের ভ্রমণ, তবে কি সত্যিই সময়ের ভ্রমণ করা সম্ভব? আপনি জেনে অবাক হবেন যে, এই টাইম ট্রাভেল নিয়ে পবিত্র আল-কুরআনে চৌদ্দশ 50 বছর আগে যে ঘটনা বর্ণনা করা হয়েছে ঠিক একইভাবে টাইম ট্রাভেল নিয়ে বিজ্ঞানী আইনস্টাইন মাত্র কিছুদিন আগে এ টাইম ট্রাভেলের সূত্র আবিষ্কার করেছেন. 

প্রথমেই আমরা জেনে আসি আসলে টাইম ট্রাভেল সময়ের ভ্রমণ বিষয়টা আসলে কি, সহজভাবে টাইম ট্রাভেল বলতে অতীতে বা ভবিষ্যতে যেতে পারাকে বোঝায়। মনে করুন এখন 2021 সাল চলছে আপনি যদি এখন এই 21 সালে থেকেই আগামী 2030 সাল মানে ভবিষ্যতে যেতে পারেন তাহলে সেটা কে বলবে সময়ের ভ্রমণ |


বিষয়টি শুনতে যতটা সহজ লাগছে বাস্তবে কিন্তু সেটা ততটা সহজ না। হ্যাঁ, ঠিকই শুনছেন! ততটা সহজ না, তবে অসম্ভব কিছুও না! টাইম ট্রাভেল কীভাবে সম্ভব তা জানতে হলে আমাদের একটু গভীরে যেতে হবে। জেনে আসতে হবে সময় পরিভ্রমণ নিয়ে বিজ্ঞানের কিছু তত্ত্ব।  

সময় পরিভ্রমণ বোঝার জন্য আপনাকে আইনস্টাইনের আপেক্ষিকতা ও আলোর গতিসূত্র বুঝতে হবে। আইনস্টাইন সময় জিনিসটাকে আলোর মাধ্যমে ব্যাখ্যার চেষ্টা করেছেন। কোনো বস্তু যত দ্রুত গতিতে চলবে, তার সাপেক্ষে সময় তত স্থির হয়ে থাকবে। অর্থাৎ, আপনি যদি আলোর কাছাকাছি গতিতে চলতে পারেন, তবে আপনার সাপেক্ষে সময় প্রায় স্থির থাকবে। আপনি দুই ঘন্টা ভ্রমণ করে আসার পর দেখবেন পৃথিবীতে হয়তো এর মাঝে দুই বছর সময় চলে গিয়েছে! এ তো গেল আলোর কাছাকাছি গতিতে ভ্রমণ করতে পারলে কী হবে সেই কথা। আর আলোর চেয়ে দ্রুতগতিতে যেতে পারলে আপনি সময়কেই অতিক্রম করে ফেলতে পারবেন!

একটি সহজ উদাহরণ দেয়া যাক। মনে করুন, আপনি পৃথিবীতে দাঁড়িয়ে এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরের কোনো একটি নক্ষত্রকে টেলিস্কোপ দিয়ে দেখছেন। এই মুহূর্তে আপনি যে জ্বলজ্বলে নক্ষত্রটি দেখছেন সেটি কিন্তু নক্ষত্রটির বর্তমান অবস্থা না। আমরা কোনো বস্তু তখন দেখতে পাই যখন সেটি থেকে আলো এসে আমাদের চোখে পড়ে। অর্থাৎ, এক লক্ষ আলোকবর্ষ দূরে থাকা সেই নক্ষত্রটি থেকে আলো এসে পৃথিবীতে পৌঁছাতে এক লক্ষ বছর লেগেছে। আপনি এই মুহুর্তে নক্ষত্রটিকে যেমন দেখছেন সেটি আপনার কাছে বর্তমান হলেও, নক্ষত্রটির কাছে সেটি এক লক্ষ বছর অতীতের ঘটনা।

এখন, কল্পনা করে নিন, সেই নক্ষত্রটি ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যাওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে সেখানে বাস করা একটি এলিয়েন ১ লক্ষ আলোকবর্ষ/সেকেন্ড গতিতে পৃথিবীতে চলে আসলো। সে আসার পরও কিন্তু সে নক্ষত্রটিকে একই অবস্থায় দেখতে পাবে পৃথিবী থেকে। তারও এক লক্ষ বছর পর পৃথিবীবাসীরা সেই নক্ষত্রকে ব্ল্যাকহোলে হারিয়ে যেতে দেখবে। তাহলে এ থেকে আমরা কী বুঝলাম? পৃথিবীবাসীরা যা এক লক্ষ বছর পর দেখবে, যা তাদের কাছে এক লক্ষ বছর ভবিষ্যতের ঘটনা, সেই ঘটনাটি পৃথিবীতে চলে আসা এলিয়েনের কাছে নিকট অতীত! 

আশা করছি টাইম ট্রাভেল বিষয়টি আপনি বুঝতে পেরেছেন এবার আসা যাক পবিত্র আল-কুরআনে অর্থাৎ ইসলাম ধর্মে টাইম ট্রাভেল দিয়ে কি বলা হয়েছে,

আমরা সকলেই জানি যে আমাদের নবী মুহাম্মদ সাল্লাল্লাহু আলাই সাল্লাম সাত আসমান পাড়ি দিয়ে মেরাজে গিয়েছিলেন, বিষয়টি আমি যত সহজে এখানে বললাম তা কিন্তু হয়তো অনেকেই সহজে নাও মেনে নিতে পারে তবে আসুন এবার প্রমাণ দেখা যাক, 

মহানবী এই বিশাল দূরত্ব এক রাতে পার করতে নিশ্চই তাঁর অকল্পনীয় গতিতে যেতে হয়েছে। আর যদি সাধারণ গতিতে যেতেন তাহলে তো তাঁর সারাজীবনেও তিনি সাত আসমানে তো দূরের কথা মহাবিশ্বও পার করতে পারতেন না। 

তাহলে এখন আসল কথা- তাঁর এই অসাধারণ ভাবনাতীত গতির মধ্যেই সব লুকিয়ে আছে। আমরা যারা একটু টাইম সম্পর্কে জানি, তারা নিশ্চই এটা জানি যে টাইম ধীরে না দ্রুত চলবে তা গতি ও মহাকর্ষের উপর নির্ভর করে। গতি কম হলে টাইম দ্রুত চলে আর গতি দ্রুত হলে টাইম আস্তে চলে। মহানবী (সাঃ) যেহেতু অসাধারণ গতিতে গিয়েছেন তাই তাঁর জন্য টাইম প্রচন্ড ধীরে চলছিল। সুতরাং তার কাছে তা অনেকদিন আর আমাদের কাছে তা এক রাত ছিল। সুতরাং আমরাও যদি এরকম গতিতে যাই তবে আমরাও এভাবে টাইম ট্রাভেল করতে পারব। 

সুতরাং মহানবী (সাঃ) এর মেরাজের ঘটনা অবশ্যই সত্য, তো বন্ধুরা আজকের ভিডিওটি এই পর্যন্তই.

ভিডিওতে দেখুন- 


Post a Comment

0 Comments